পবিত্র কুরআন সূচি

পবিত্র কুরআন সূচি ,পবিত্র  কুরআন মজিদ অথবা কুরআন মাজীদ বা কোরআন (আরবি: القرآن‎‎ আল্-কুর্’আন্[টী১]) ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহর বাণী বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন। এটিকে আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে মনে করা হয়। কুরআনকে প্রথমে অধ্যায়ে (আরবিতে সূরা) ভাগ করা হয় এবং অধ্যায়গুলো (সূরা) আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন পড়ুন আরবি, বাংলা, ইংরেজি উচ্চারণ ও অর্থ সহ। তালিকা থেকে সূরাটি বেছে নিন।

 

পবিত্র কুরআন সূচি

পবিত্র কুরআন । সূচি

ক্রমানুযায়ী পবিত্র কুরআন এর সকল সুরা

সুরার ক্রম –|– সূরার নাম –|– সূরার ধরণ –|– আয়াত সংখ্যা
১ –|– আল ফাতিহা –|– মক্কা –|– 7

২ –|– আল বাক্বারাহ্ –|– মদীনা –|– 286

৩ –|– আলে ইমরান –|– মদীনা –|– 200

৪ –|– আন-নিসা –|– মদীনা –|– 176

৫ –|– আল-মায়েদাহ্ –|– মদীনা –|– 120

৬ –|– আল-আন‘আম –|– মক্কা –|– 165

৭ –|– আল-আ‘রাফ –|– মক্কা –|– 206

৮ –|– আল-আনফাল –|– মদীনা –|– 75

৯ –|– আত-তাওবাহ্ –|– মদীনা –|– 129

১০ –|– ইউনুস –|– মক্কা –|– 109

১১ –|– হূদ –|– মক্কা –|– 123

১২ –|– ইউসুফ –|– মক্কা –|– 111

১৩ –|– আর-রা‘দ –|– মদীনা –|– 43

১৪ –|– ইব্রাহীম –|– মক্কা –|– 52

১৫ –|– আল-হিজর –|– মক্কা –|– 99

১৬ –|– আন-নাহ্‌ল –|– মক্কা –|– 128

১৭ –|– আল-ইসরা –|– মক্কা –|– 111

১৮ –|– আল-কাহফ –|– মক্কা –|– 110

১৯ –|– মারইয়াম –|– মক্কা –|– 98

২০ –|– ত্বা-হা –|– মক্কা –|– 135

২১ –|– আল-আম্বিয়া –|– মক্কা –|– 112

২২ –|– আল-হাজ্জ –|– মদীনা –|– 78

২৩ –|– আল-মু’মিনূন –|– মক্কা –|– 118

২৪ –|– আন-নূর –|– মদীনা –|– 64

২৫ –|– আল-ফুরক্বান –|– মক্কা –|– 77

২৬ –|– আশ-শু‘আরা –|– মক্কা –|– 227

২৭ –|– আন-নামল –|– মক্কা –|– 93

২৮ –|– আল-ক্বাসাস –|– মক্কা –|– 88

২৯ –|– আল-‘আনকাবূত –|– মক্কা –|– 69

৩০ –|– আর-রূম –|– মক্কা –|– 60

৩১ –|– লুক্বমান –|– মক্কা –|– 34

৩২ –|– আস-সাজদা –|– মক্কা –|– 30

৩৩ –|– আল-আহযাব –|– মদীনা –|– 73

৩৪ –|– সাবা –|– মক্কা –|– 54

৩৫ –|– ফাতের –|– মক্কা –|– 45

৩৬ –|– ইয়াসীন –|– মক্কা –|– 83

৩৭ –|– আস-সাফ্‌ফাত –|– মক্কা –|– 181

৩৮ –|– সুরত সদ –|– মক্কা –|– 88

৩৯ –|– আয-যুমার –|– মক্কা –|– 75

৪০ –|– গাফের –|– মক্কা –|– 85

৪১ –|– ফুসসিলাত –|– মক্কা –|– 54

৪২ –|– আশ-শূরা –|– মক্কা –|– 53

৪৩ –|– আয-যুখরুফ –|– মক্কা –|– 89

৪৪ –|– আদ-দুখান –|– মক্কা –|– 59

৪৫ –|– আল-জাসিয়া –|– মক্কা –|– 37

৪৬ –|– আল-আহক্বাফ –|– মক্কা –|– 35

৪৭ –|– মুহাম্মাদ –|– মদীনা –|– 38

৪৮ –|– আল-ফাতহ –|– মদীনা –|– 29

৪৯ –|– আল-হুজুরাত –|– মদীনা –|– 18

৫০ –|– সুরত ক্বাফ –|– মক্কা –|– 45

৫১ –|– আয-যারিয়াত –|– মক্কা –|– 60

৫২ –|– আত-তূর –|– মক্কা –|– 49

৫৩ –|– আন-নাজম –|– মক্কা –|– 62

৫৪ –|– আল-ক্বামার –|– মক্কা –|– 55

৫৫ –|– আর-রাহমান –|– মদীনা –|– 78

৫৬ –|– আল-ওয়াক্বি‘আহ –|– মক্কা –|– 96

৫৭ –|– আল-হাদীদ –|– মদীনা –|– 29

৫৮ –|– আল-মুজাদালাহ্ –|– মদীনা –|– 22

৫৯ –|– আল-হাশর –|– মদীনা –|– 24

৬০ –|– আল-মুমতাহিনা –|– মদীনা –|– 13

৬১ –|– আস-সাফ –|– মদীনা –|– 14

৬২ –|– আল-জুমু‘আ –|– মদীনা –|– 11

৬৩ –|– আল-মুনাফিক্বূন –|– মদীনা –|– 11

৬৪ –|– আত-তাগাবুন –|– মদীনা –|– 18

৬৫ –|– আত-ত্বালাক –|– মদীনা –|– 12

৬৬ –|– আত-তাহরীম –|– মদীনা –|– 12

৬৭ –|– আল-মুলক –|– মক্কা –|– 30

৬৮ –|– আল-ক্বালাম –|– মক্কা –|– 52

৬৯ –|– আল-হাক্কাহ্ –|– মক্কা –|– 52

৭০ –|– আল-মা‘আরেজ –|– মক্কা –|– 44

৭১ –|– নূহ –|– মক্কা –|– 28

৭২ –|– আল-জিন্ন –|– মক্কা –|– 28

৭৩ –|– আল-মুযযাম্মিল –|– মক্কা –|– 20

৭৪ –|– আল-মুদ্দাস্‌সির –|– মক্কা –|– 56

৭৫ –|– আল-ক্বিয়ামাহ্‌ –|– মক্কা –|– 40

৭৬ –|– আল-ইনসান –|– মদীনা –|– 31

৭৭ –|– আল-মুরসালাত –|– মক্কা –|– 50

৭৮ –|– আন-নাবা –|– মক্কা –|– 40

৭৯ –|– আন-নাযি‘আত –|– মক্কা –|– 46

৮০ –|– ‘আবাসা –|– মক্কা –|– 42

৮১ –|– আত-তাকভীর –|– মক্কা –|– 29

৮২ –|– আল-ইনফিতার –|– মক্কা –|– 19

৮৩ –|– আল-মুতাফফিফীন –|– মক্কা –|– 36

৮৪ –|– আল-ইনশিক্বাক –|– মক্কা –|– 25

৮৫ –|– আল-বুরূজ –|– মক্কা –|– 22

৮৬ –|– আত-ত্বারেক –|– মক্কা –|– 17

৮৭ –|– আল-আ‘লা –|– মক্কা –|– 19

৮৮ –|– আল-গাশিয়াহ্ –|– মক্কা –|– 26

৮৯ –|– আল-ফাজর –|– মক্কা –|– 30

৯০ –|– আল-বালাদ –|– মক্কা –|– 20

৯১ –|– আশ-শামস –|– মক্কা –|– 15

৯২ –|– আল-লাইল –|– মক্কা –|– 21

৯৩ –|– আদ্ব-দ্বুহা –|– মক্কা –|– 11

৯৪ –|– আশ-শারহ –|– মক্কা –|– 8

৯৫ –|– আত-তীন –|– মক্কা –|– 8

৯৬ –|– আল-‘আলাক্ব –|– মক্কা –|– 19

৯৭ –|– আল-ক্বাদর –|– মক্কা –|– 5

৯৮ –|– আল-বায়্যিনাহ্ –|– মদীনা –|– 8

৯৯ –|– আয-যালযালাহ্ –|– মদীনা –|– 8

১০০ –|– আল-‘আদিয়াত –|– মক্কা –|– 11

১০১ –|– আল-ক্বারি‘আহ্ –|– মক্কা –|– 11

১০২ –|– আত-তাকাসুর –|– মক্কা –|– 8

১০৩ –|– আল-‘আসর –|– মক্কা –|– 3

১০৪ –|– আল-হুমাযাহ্ –|– মক্কা –|– 9

১০৫ –|– আল-ফীল –|– মক্কা –|– 5

১০৬ –|– ক্বুরাইশ –|– মক্কা –|– 4

১০৭ –|– আল-মা‘ঊন –|– মক্কা –|– 7

১০৮ –|– আল-কাউসার –|– মক্কা –|– 3

১০৯ –|– আল-কাফিরূন –|– মক্কা –|– 6

১১০ –|– আন-নাসর –|– মদীনা –|– 3

১১১ –|– আল-মাসাদ –|– মক্কা –|– 5

১১২ –|– আল-ইখলাস –|– মক্কা –|– 4

১১৩ –|– আল-ফালাক্ব –|– মদীনা –|– 5

১১৪ –|– আন-নাস –|– মদীনা –|– 6

islamia gurukul logo

এই কিতাব আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল এর মাধ্যমে ইসলামিক নবি মুহাম্মাদ এর কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে কুরআনের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন, দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স ৪০ বছর এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে।

মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক ঘটনা যা তার নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ এবং ঐশ্বরিক বার্তা প্রেরণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় যা আদম থেকে শুরু হয়ে মুহাম্মাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে সুফিবাদের অনুসারীরা বিশ্বাস করে থাকেন মুহাম্মাদের সকল কর্মকান্ড উম্মতের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্যই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়। কুরআনের আয়াতসমূহে কুরআন শব্দটি ৭০ বার এসেছে।

সূরা ফাতিহা ১৮-১ ৭ আয়াত, মক্কী

ইসলামি ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলামের নবি মুহাম্মাদের নিকট অবতীর্ণ হয়। ইসলামের অনুসারীরা কুরআনকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বলে বিশ্বাস করে। কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙ্‌ক্তি সংখ্যা ৬,২৩৬ টি; মতান্তরে ৬,৬৬৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। মুসলিম চিন্তাধারা অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম বাণীবাহক আদম থেকে শুরু হয়।

কুরআনে কুর’আন শব্দটি কয়েকটি অর্থে প্রায় ৭০ বার এসেছে। আর, আরবি ব্যাকরণে “কুর’আন” শব্দটি একটি “মাসদার”,যা ভাববাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৭৫:১৭,১৮ আয়াতে এটি,(قرأ) ক্বারা’আ (‘পাঠ করা’, ‘আবৃত্তি করা’ বা ‘অনুসরণ করা’) ক্রিয়ার ভাববাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ক্রিয়াপদটিকেই কুরআন নামের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।[১৮] এই শব্দটির “মাসদার” (الوزن) হচ্ছে غفران তথা “গুফরান”। এর অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত ভাব, অধ্যবসায় বা কর্ম সম্পাদনার মধ্যে একাগ্রতা।

উদাহরণস্বরুপ, (غفر) নামক ক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে “ক্ষমা করা”; কিন্তু এর আরেকটি মাসদার রয়েছে যার যা হলো (غفران), এই মাসদারটি মূল অর্থের সাথে একত্রিত করলে দাঁড়ায় ক্ষমা করার কর্মে বিশেষ একাগ্রতা বা অতি তৎপর বা অতিরিক্ত ভাব। সেদিক থেকে কুরআন অর্থ কেবল পাঠ করা বা আবৃত্তি করা নয় বরং একাগ্র ভঙ্গীতে পাঠ বা আবৃত্তি করা। কুরআনের মধ্যেও এই অর্থেই কুরআন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআনের সূরা আল-কিয়ামাহের (৭৫ নং সূরা) ১৮ নং আয়াতে এই শব্দটি উল্লেখিত আছে:”অতঃপর, আমি যখন তা পাঠ করি (ক্বুরা’নাহু), তখন আপনি সেই পাঠের (কুরআ’নাহ্‌) অনুসরণ করুন।”

 

সূরা মুমিনূন

আরও দেখুনঃ 

মন্তব্য করুন